নব্বইয়ের দশকে ছোট পর্দায় অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া বিপাশা হায়াত এখন অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে। তবে অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে তার। ভালো গল্প ও মানসম্মত চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় আছেন তিনি। পাশাপাশি আগামী তিন বছরের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। অভিনয়ের পাশাপাশি নাট্যকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও পরিচিত বিপাশা হায়াত। কালজয়ী ধারাবাহিক ‘অয়োময়’, ‘আগুনের পরশমণি’ ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘জয়যাত্রা’য় অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। ‘আগুনের পরশমণি’তে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অভিনেতা আবুল হায়াত তার বাবা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের শিল্পীজীবন, কবিতা, লেখালেখি, অভিনয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন বিপাশা।
অভিনয়ে ফেরার অপেক্ষা
অভিনয়ে নিয়মিত না থাকলেও কাজের প্রস্তাব পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিপাশা। সিনেমা ও নাটক দুই মাধ্যম থেকেই প্রস্তাব আসে। তবে শুধু অভিনয়ের জন্য অভিনয় করতে চান না তিনি। তার মতে, একটি ভালো গল্প ও শক্তিশালী ভাবনা থাকা জরুরি। শিল্পের নিজস্ব দর্শন ও উদ্দেশ্য থাকা প্রয়োজন। কেবল সংলাপ লিখলেই নাটক হয়ে যায় না; এর পেছনে থাকতে হয় সৃষ্টিশীল তাড়না। সে রকম গল্প ও চিত্রনাট্যের অপেক্ষাতেই রয়েছেন তিনি।
চিত্রশিল্পে নিজের মনোজগতের প্রকাশ
চিত্রশিল্পী হিসেবে নিজের কাজের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিপাশা বলেছেন, ছবি আঁকার চেয়ে ক্যানভাসে নিজের ভাবনা প্রকাশ করতেই তিনি বেশি আগ্রহী। তার ভাষায়, ছবির ভাষা সর্বজনীন। নিজের মনোজগতের ভাবনা ক্যানভাস বা কাগজে প্রকাশ করেন তিনি, যা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। ‘আর্ট অ্যান্ড জাস্টিস’ নিয়ে কাজ করা বিশ্বের ২০ জন শিল্পীর ওপর প্রকাশিত ইতালীয় ভাষার একটি বইয়েও স্থান পেয়েছে তার কাজ। বিপাশার মতে, সেখানে তাকে নয়, নির্বাচিত হয়েছে তার শিল্পকর্ম।
কবিতা ও লেখালেখির প্রভাব
কবিতা তার জীবনকে বিভিন্নভাবে বদলে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। স্কুলজীবনে পড়া কবিতা থেকে শুরু করে জীবনানন্দ দাশের লেখা বিভিন্ন কবির সৃষ্টিকর্ম তাকে ভাবিয়েছে। ইংরেজি কবিতা ‘প্যাট্রিয়ট’ এবং ‘দ্য রাইম অব দ্য এনশিয়েন্ট মেরিনার’-এর কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি। লেখালেখির শুরু স্কুলের সাহিত্য পত্রিকায়। পরে ভোরের কাগজের কয়েকজন সাংবাদিক ও লেখকের উৎসাহে গল্প লিখতে শুরু করেন। তার লেখা নাটক ‘জোছনাকাল’ ও ‘শঙ্খবাস’ দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছে। ‘জোছনাকাল’-এ কাছের মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন তিনি।
তৌকীর আহমেদের সঙ্গে বন্ধুত্ব
জীবনসঙ্গী তৌকীর আহমেদকে নিজের বন্ধু হিসেবেও দেখেন বিপাশা। দুজনেরই শিল্পের প্রতি গভীর আগ্রহ ও নিজস্ব ভাবনাজগৎ রয়েছে। বিয়ের আগে টানা নয় বছর একসঙ্গে কাজ করেছেন তারা। বিপাশার ভাষায়, তৌকীর তাকে একজন স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবেই দেখেন।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সিনেমা নির্মাণের স্বপ্ন
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি সিনেমা নির্মাণের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বিপাশা। এ জন্য চিত্রনাট্য তৈরির পরিকল্পনাও করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে তিন বছর পর কাজ শুরু করতে চান তিনি। বিপাশা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সন্তান হিসেবে এই কাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা রয়েছে। সিনেমাটি নির্মাণের উদ্দেশ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নয়; বরং নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাবনা ও অনুভূতি প্রকাশ করা। এ ক্ষেত্রে বড় বাজেট বা উন্নত ক্যামেরার চেয়ে গল্প ও অনুভূতিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান তিনি। বাবা-মায়ের কাছ থেকেই জীবনের অনেক শিক্ষা পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন বিপাশা। বাবার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা এবং মায়ের কাছ থেকে সংসারজীবনের শিক্ষা পেয়েছেন তিনি।