মাগুরায় ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত চক্রের সদস্যদের মধ্যকার বিরোধের জেরেই যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ডাকাতির লুণ্ঠিত স্বর্ণের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ পৃথক দুটি মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬১ ভরি স্বর্ণ, দুটি মোটরসাইকেল, একটি প্রাইভেটকার, একটি বুলেট ও একটি খালি কার্তুজ। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মাগুরা জেলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গোল্ডেনলাইন পরিবহনের একটি বাসের গতিরোধ করে ১২ থেকে ১৫ সদস্যের একটি ডাকাত দল। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তারা বাস থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানকে নামিয়ে হুলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১৫০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। লুণ্ঠিত স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় ডাকাতির মামলা হয়। মামলাটির তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন মো. জুয়েল হোসেন, তৌকির আহমেদ, মো. ফরিদ মন্ডল, মো. মিল্টন মোল্যা, মারুফা আক্তার, মো. গোলাম জাহিদ ও মো. মারুফ হোসেন। তাদের বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ডাকাত চক্রের সঙ্গে যুবদল নেতা শাকের হোসেনেরও সম্পৃক্ততা ছিল। ডাকাতির পর লুণ্ঠিত স্বর্ণের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে চক্রের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিশেষ করে চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মো. মারুফ হোসেনের সঙ্গে শাকেরের বিরোধ চরমে পৌঁছায়। পুলিশের দাবি, এই বিরোধের জেরেই শাকেরকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারের ভেতরে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা শাকের হোসেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন নাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশের দাবি, মারুফ হোসেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদের সহযোগিতায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান।
পুলিশ জানায়, স্বর্ণ ডাকাতি ও হত্যা মামলায় পৃথকভাবে সাতজন ও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই মামলায় কয়েকজনের নাম থাকায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১১। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত ৬১ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডাকাতি মামলায় একটি কাটা স্বর্ণের বার, দুটি মোটরসাইকেল ও একটি টয়োটা ভিটজ গাড়ি এবং হত্যা মামলায় পাঁচটি স্বর্ণের বার, একটি বুলেট ও একটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া শুটারকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।