যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোটকেন্দ্র খুলেছে। এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের সদস্য, গভর্নর এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। আনাদোলুর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। নিউইয়র্ক, কানেকটিকাট, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া এবং ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কয়েকটি অংশে স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় (গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১০টা) ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দেশটির অন্যান্য এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এবার প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গভর্নর নির্বাচন। ভোটাররা অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভা ও স্থানীয় পর্যায়ের অন্যান্য জনপ্রতিনিধিও নির্বাচন করছেন। কিছু অঙ্গরাজ্যে নীতিগত বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গণভোটও।
বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়ার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষমতা সীমিত করতে চায় দলটি। বিভিন্ন সময় অঞ্চলে দিনভর ভোটগ্রহণ চলবে। পূর্বাঞ্চলীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় প্রথম দফার নিয়মিত ভোটকেন্দ্রগুলো বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে।
রেকর্ড সংখ্যক আগাম ভোট
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিবন্ধিত প্রায় ২১ কোটি ভোটারের মধ্যে ৫ কোটি ৮৭ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩ কোটি ১৯ লাখ ভোটার সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। আর ডাকযোগে ব্যালট পাঠিয়েছেন ২ কোটি ৬৮ লাখ ভোটার। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দেয়া ৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের তুলনায় এবার এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
২০২২ সালের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ২০ লাখ ভোট পড়েছিল। এবারের আগাম ভোটের সংখ্যা সেই মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক। যেসব অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের দলীয় পরিচয় নথিভুক্ত করা হয়, সেখানে আগাম ভোট দেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১ কোটি ২৫ লাখ নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট এবং প্রায় ৯০ লাখ নিবন্ধিত রিপাবলিকান ভোটার রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই ডাকযোগে ভোট দেয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে আগাম ভোট দেয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।