চব্বিশের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে ব্যবহার করে শিল্পকারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের জবাব দেশের সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়েই দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালি মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে। সম্প্রতি বিভিন্ন শিল্পকারখানা, যন্ত্রপাতি ও যানবাহন ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রকৃত শ্রমিকেরা কখনো নিজেদের কর্মসংস্থানের উৎস ধ্বংস করতে পারেন না। শিল্পকারখানা দেশের পাশাপাশি শ্রমিকদেরও সম্পদ। এসব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন শ্রমিক, তাঁদের পরিবার ও সন্তানেরা। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি মহল সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এর নেপথ্যে রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত ব্যক্তিরা। তবে সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করে এসব ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় শিল্পসমৃদ্ধ খুলনাসহ দীর্ঘদিন অবহেলিত অঞ্চলগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে খুলনা অঞ্চলের বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে। খুলনা, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় পর্যন্ত ব্যাপক শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।