যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছর কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে তাঁর দল। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তদন্ত, নীতিগত পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং আইন প্রণয়নে বাধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে নির্বাচনের ফলকে ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে তুলে ধরেছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ অব্যাহত থাকলেও কংগ্রেস ও নিজ দলের ওপর ট্রাম্পের প্রভাব আগের মতো বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন আগামী জানুয়ারিতে শুরু হলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগে বাধা আসতে পারে। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ, বাজেট এবং আইনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে।
তদন্ত ও অভিশংসনের সম্ভাবনা
ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তদন্তের উদ্যোগ নিতে পারেন। বিশেষ করে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত তদন্ত এবং সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ গুরুত্ব পেতে পারে। কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো শুনানি আয়োজন, নথি তলব এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। এ ছাড়া ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হলেই প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরানো যায় না। এ জন্য সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
রিপাবলিকান পার্টিতে ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন
গত কয়েক বছর ধরে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণে ট্রাম্পের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এবারের নির্বাচনে দলটির বড় পরাজয়ের পর নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে দলের ভেতরে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতাও বাড়তে পারে।
যুদ্ধ ও অর্থনীতি ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে
ইরান যুদ্ধ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তাঁর দলের নির্বাচনি ক্ষতি হয়েছে। তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মানতে রাজি হননি তিনি।
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক অর্জন
এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। জর্জিয়ায় কিশা ল্যান্স বটমস দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। নিউ মেক্সিকোতে ডেব হালান্ড প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর হওয়ার পথে রয়েছেন। এ ছাড়া মিনেসোটায় পেগি ফ্লানাগান প্রথম আদিবাসী নারী হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন। মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদ প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়কে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাহী ক্ষমতা, ভেটো প্রয়োগ এবং পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার দায়িত্ব ট্রাম্পের হাতেই থাকছে। ফলে কংগ্রেসে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণ তাঁর প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ালেও প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা শেষ হয়ে যাচ্ছে না।