গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখতে অনেকে ঠান্ডা পানি বা পানীয় বেছে নেন। তবে গরম চা পান করলেও নাকি শরীরের তাপমাত্রা কমে। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। তবে এই পদ্ধতি সব পরিবেশে কার্যকর নয়। বরং অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও বদ্ধ পরিবেশে গরম পানীয় শরীরকে আরও অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গরম পানীয় শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় শরীর থেকে ঘাম বের হতে শুরু করে। আর ত্বকের সেই ঘাম বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়ার সময় শরীর থেকে তাপ শোষণ করে নেয়। ফলে শরীর ঠান্ডা হতে পারে।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন অধ্যাপক জন ট্রেগনিং। তিনি বলেন, গরম পানীয় পান করলে শরীরে দুটি বিষয় ঘটে। প্রথমত, পানীয়ের তাপ শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায়। দ্বিতীয়ত, এর প্রতিক্রিয়ায় ঘামের পরিমাণও বেড়ে যায়। তবে শরীর ঠান্ডা হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে ঘাম কতটা কার্যকরভাবে বাষ্পীভূত হচ্ছে তার ওপর। বাতাস চলাচল করে এমন খোলা জায়গায় ঘাম সহজে শুকিয়ে যায়। এতে শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত আর্দ্রতা কিংবা বাতাস চলাচল কম এমন জায়গায় ঘাম সহজে শুকায় না। ফলে শরীর ঠান্ডা হওয়ার বদলে আরও গরম হয়ে উঠতে পারে। অধ্যাপক ট্রেগনিংয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সমুদ্রতীরের মতো বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় হাঁটার পর গরম চা পান করলে তা শরীর ঠান্ডা করতে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বৃষ্টিবন কিংবা অতিরিক্ত আর্দ্র পরিবেশে একই কাজ উল্টো ফল দিতে পারে। তবে গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে গরম না ঠান্ডা—কোন ধরনের পানীয় বেশি কার্যকর, সে বিষয়ে বড় কোনো সুবিধা নেই বলেও মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তার মতে, পানীয়ের তাপমাত্রার চেয়ে শরীরে পর্যাপ্ত তরল সরবরাহ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় নিয়মিত পানি পান করা জরুরি।
অর্থাৎ, গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে গরম চা পান করা একেবারে ভুল ধারণা নয়। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করে পরিবেশের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বাতাস চলাচলের ওপর।
রূপক/ ৪ নভেম্বর ২৬