বলিউড তারকা সাইফ আলি খান ও কারিনা কাপুর খানের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের কমতি নেই। বিশেষ করে সাইফের প্রথম পক্ষের সন্তান সারা আলি খান ও ইব্রাহিম আলি খানের সঙ্গে কারিনার সম্পর্ক কেমন, তা নিয়ে প্রায়ই কৌতূহল দেখা যায়। এবার জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘কফি উইথ করণ’-এর নতুন আসরে সেই সম্পর্কের আন্তরিক দিকটি উঠে এসেছে। শোয়ের বিশেষ পর্বে সাইফের বড় ছেলে ইব্রাহিম আলি খানের একটি ভিডিও বার্তা দেখানো হয়। সেখানে বাবা সাইফের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশের পাশাপাশি সৎমা কারিনা কাপুর খানের প্রশংসা করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্কের কথাও উঠে আসে তার বক্তব্যে।
ভিডিও বার্তায় সাইফকে নিজের আদর্শ ও ‘হিরো’ বলে উল্লেখ করেন ইব্রাহিম। তার মতে, শুধু তারকা পরিচয়ের জন্য নয়, বরং জীবনের নানা কঠিন পরিস্থিতি ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শক্তভাবে টিকে থাকার কারণেই বাবাকে এতটা শ্রদ্ধা করেন তিনি। সাইফের শারীরিক অসুস্থতা, হৃদ্রোগজনিত সমস্যা এবং বান্দ্রার বাসভবনে ছুরিকাঘাতের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ইব্রাহিম বলেন, জীবনের নানা প্রতিকূলতার মুখেও তার বাবা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, সেটিই তাকে অনুপ্রাণিত করে। এসব অভিজ্ঞতার পরও সাইফের দৃঢ়তা তাকে বাবার প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল করেছে বলে জানান তিনি। এরপর সৎমা কারিনার উদ্দেশে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইব্রাহিম। তিনি কারিনাকে বিশ্বের সবচেয়ে ‘কুল’ ছোটমা হিসেবে অভিহিত করেন। ইব্রাহিমের ভাষায়, কারিনা সব সময় তাদের পাশে থেকেছেন। এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ভালোবাসার কথাও জানান তিনি।
শোয়ের একপর্যায়ে কার হাতে উপহার দেওয়া উচিত-এমন প্রশ্ন করা হলে কোনো দ্বিধা ছাড়াই বাবার নাম বলেন ইব্রাহিম। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এই সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠার পেছনে কারিনার ভূমিকার কথা স্বীকার করেন সাইফ আলি খানও। তিনি জানান, প্রথম পক্ষের দুই সন্তান সারা ও ইব্রাহিমের সঙ্গে কারিনার আন্তরিক সম্পর্ক তৈরিতে তার স্ত্রীর বড় অবদান রয়েছে। তবে এমন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পরিবারের সবার পারস্পরিক সহযোগিতাও জরুরি বলে মনে করেন অভিনেতা। সাইফের ভাষায়, পরিবারের সবাই অত্যন্ত ভালো। তবে এই সম্পর্কের কৃতিত্ব কারিনা ও অন্য সদস্যদেরও দিতে হবে, কারণ পারিবারিক বন্ধন বজায় রাখার বিষয়টি দুই দিক থেকেই কাজ করে।
অন্যদিকে, ইব্রাহিমের সঙ্গে ছোট দুই ভাই তৈমুর ও জেহর সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন কারিনা। তিনি জানান, তৈমুর ও জেহ তাদের বড় ভাইকে ভীষণ ভালোবাসে এবং তার প্রতি তাদের আলাদা শ্রদ্ধা রয়েছে। তারা ইব্রাহিমের মতো হতে চায় এবং তার সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করে। বড় ভাই ইব্রাহিমও তাদের সময় দেওয়ার চেষ্টা করেন।