১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার দৃশ্য টেলিভিশনে দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন বলে জানিয়েছেন কংগ্রেসের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। নিজের প্রকাশিতব্য আত্মজীবনী উপলক্ষে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই সময়ের স্মৃতিচারণ করেন তিনি। সোনিয়া গান্ধী বলেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা তাকে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষার লড়াই কতটা দীর্ঘ ও কঠিন হতে পারে, তা উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছিল। ঘটনাটি তার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলেও জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারে ভারতের রাজনীতিতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) উত্থান নিয়েও কথা বলেন সোনিয়া গান্ধী। এ ক্ষেত্রে কংগ্রেসের নিজস্ব আত্মতুষ্টি ও উদাসীনতারও কিছু ভূমিকা ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি। তার এ মন্তব্যকে দলটির অতীত রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে আত্মসমালোচনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্য প্রকাশের পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির সংসদ সদস্য সুধাংশু ত্রিবেদী এ মন্তব্যের সমালোচনা করে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছেন। তার অভিযোগ, কংগ্রেস এখনো মুঘল সম্রাট বাবরের প্রতি সহানুভূতিশীল রাজনীতি বজায় রেখেছে।
তিনি সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্যের সঙ্গে প্রয়াত রাজীব গান্ধীর অযোধ্যাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক পদক্ষেপের বৈপরীত্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সোনিয়া গান্ধী ঠিক কোন সময়ে এবং কোন টেলিভিশন চ্যানেলে বাবরি মসজিদ ভাঙার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার হতে দেখে কেঁদেছিলেন, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বিষয়। সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিচারণ এবং বিজেপি নেতার পাল্টা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।