রংপুরের পীরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয়দের হাতে ৯২ পিস ইয়াবাসহ আটক হয়েছেন রামনাথপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান। একই ঘটনায় মশিউর রহমান নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা দুজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। মাদকসহ আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মিজানুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা যুবদল। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার মাদারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগে প্রথমে মশিউর রহমানকে আটক করেন তারা। পরে একই ঘটনায় মিজানুর রহমান মিজানকেও আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিজানুর রহমান ও মশিউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। দুজনকে আটকের পর স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে যায়। মিজানুর রহমান মিজান রামনাথপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মাদকসহ আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় উপজেলা যুবদল।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা যুবদলের প্যাডে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মিজানুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন পীরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান আনিস ও সদস্যসচিব আব্দুস সালাম। এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান আনিস বলেন, যুবদলের কোনো নেতাকর্মী মাদক কিংবা অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে দল তার দায় নেবে না। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মিজানুর রহমানকে উপজেলা যুবদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পীরগঞ্জ থানার সদ্য বদলি হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক জানান, স্থানীয়রা মাদকসহ দুজনকে আটক করে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে একজন রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ও আটকের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।