বিডিআর বিদ্রোহের পর চাকরি হারিয়ে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন কুমিল্লার দেবীদ্বারের খোরশেদ আলম। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছিলেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুদানের দুই নাগরিকের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারাতে হলো তাকে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরেছে তার মরদেহ। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ভিরাল্লা গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়।
নিহত খোরশেদ আলম ভিরাল্লা গ্রামের হাজী আনছর আলীর বাড়ির মৃত হাজী নুরুল ইসলামের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের পর চাকরি হারান খোরশেদ। সে সময় তিনি খাগড়াছড়িতে কর্মরত ছিলেন। চাকরি হারানোর পাশাপাশি দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগও করতে হয় তাকে। পরে জীবিকার তাগিদে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে যান। দেশটির আবহা শহরের আভা খামিজের মোসাইদ খালেদিয়া এলাকায় ফয়সাল আহমারী মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন তিনি। পাশাপাশি সেখানে একটি লন্ড্রি ব্যবসাও গড়ে তোলেন।
খোরশেদ আলমের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার জানান, গত ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে দোকানের বকেয়া টাকা আদায় ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে দোকানের কর্মচারী আহাদ মিয়ার সঙ্গে কয়েকজন সুদানের নাগরিকের কথা কাটাকাটি হয়। আহাদ মিয়ার বাড়ি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায়। একপর্যায়ে সুদানের নাগরিকরা তার ওপর হামলা চালালে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান খোরশেদ আলম। এ সময় হামলাকারীরা অতর্কিতভাবে খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করে।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল মতিন জানান, হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রমে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। স্থানীয় আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এবং গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
খোরশেদ আলম চার কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন বিবাহিত এবং অন্য দুজন অবিবাহিত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও চার মেয়েসহ স্বজনেরা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য যে স্বপ্ন গড়েছিলেন খোরশেদ, তার আকস্মিক মৃত্যুতে সেই পরিবারে নেমে এসেছে শোক ও উদ্বেগ।