মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ঘিরে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার-কে পাকিস্তানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, “ইরান আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে।” তিনি জানান, আলোচনা ইতিবাচক হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এতে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানিয়েছেন, তিনি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতোমধ্যে ইসলামাবাদ পৌঁছেছেন। সেখানে পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই; পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের অবস্থান তুলে ধরা হবে।”
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানকে একটি “ভালো চুক্তি” করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করলেই অর্থবহ সমাধানের পথ খুলবে। এদিকে, তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ জোরদার হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক পদক্ষেপের পর ইরান ওই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে, ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প মূলত “ইরানের অবস্থান সরাসরি শোনার” লক্ষ্যেই এই প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছেন। লিভিট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় কূটনীতিকে সুযোগ দিতে আগ্রহী এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের দিক থেকে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে প্রকাশ্য বক্তব্যের বাইরে নেপথ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটন বলছে, যুদ্ধ শেষ করতে তারা কোনো চাপ অনুভব করছে না; অন্যদিকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ পরিস্থিতির ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
এদিকে মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ইরান এখনো আলোচনায় আগ্রহী, তবে অবরোধ, হুমকি ও পূর্বের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গই বড় বাধা হয়ে আছে। একই সঙ্গে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব নয়।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে-পাকিস্তানে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ থেকে আদৌ কতটা অগ্রগতি সম্ভব হবে। যদিও পূর্ববর্তী দফায় ভ্যান্স আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, এবারের বৈঠকে তাঁর অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়।