“জনগণের আশার প্রতিফলনই বর্তমান সরকার”-প্রধানমন্ত্রী
দীর্ঘ দেড় দশক পর জনগণের সরাসরি ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার যে প্রত্যাশা ছিল, বর্তমান সরকার সেই আশারই প্রতিফলন। শনিবার সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমেটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে-রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ। তাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, বিয়াম ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯১ সালে এবং পরবর্তীতে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং প্রশাসনিক সক্ষমতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার।
তারেক রহমান আরও বলেন, ভবিষ্যতের প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠনে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখানে জ্ঞানচর্চা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আধুনিক প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান যুগে শুধু নিয়ম জানা যথেষ্ট নয়; বরং প্রযুক্তি ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও জরুরি। এজন্য সরকার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ফলাফলভিত্তিক করতে কাজ করছে।
জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি কোনো রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, বরং একটি চুক্তি। সেই চুক্তি বাস্তবায়ন করাই সরকারের দায়িত্ব। তিনি প্রশাসনের সদস্যদের উদ্দেশে সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সিদ্ধান্তের প্রভাব ব্যক্তি, পরিবার থেকে শুরু করে পুরো জাতির ওপর পড়ে।
তিনি বলেন, সরকার একটি ‘মেরিটোক্রেসি ভিত্তিক বাংলাদেশ’ গড়তে চায়, যেখানে নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে মেধা, সততা ও দক্ষতা হবে প্রধান মানদণ্ড। তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও ডিজিটাল হতে হবে। সরকারি সেবা নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে নারী ও যুবসমাজকে উন্নয়নের মূল শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং নীতিনির্ধারণে পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীলতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সবশেষে তিনি জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।