যুদ্ধবিরতি মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছে আরও ৩৭ জন। রোববার (২৬ এপ্রিল) লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম
হামলার আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেন। তিনি সতর্ক করেন, সেখানে অবস্থান করলে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পরবর্তীতে ইসরায়েল জানায়, হিজবুল্লাহর যোদ্ধা ও তাদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ওইসব স্থাপনা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
অন্যদিকে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানায়, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১৯ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। একই দিনে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া তিনটি ড্রোন সীমান্ত অতিক্রমের আগেই ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
গত ১৬ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি ক্রমেই নাজুক হয়ে উঠছে। সম্প্রতি এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে সম্ভাব্য বা চলমান হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইসরায়েল ধরে রেখেছে।
এ প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সরকারি বৈঠকে বলেন, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তা আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, হিজবুল্লাহর তৎপরতাই যুদ্ধবিরতির স্থিতি বিঘ্নিত করছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে শনিবার নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে কঠোর হামলার নির্দেশ দেন। ওই দিন পৃথক হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হন। এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার পাকিস্তান সফরে গিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি ইসলামাবাদে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরবর্তী সময়ে ওমানে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান।
তবে একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার-এর ইসলামাবাদ সফর স্থগিত করেন। হোয়াইট হাউস জানায়, ইরান আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও এখনো সরাসরি কোনো বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি।
শনিবার আরাগচি বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা নিয়ে তেহরানের সংশয় রয়ে গেছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, আলোচনার অগ্রগতি নির্ভর করবে পারস্পরিক আস্থার ওপর। এ প্রেক্ষাপটে সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও সীমান্তজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।