মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই ভেনেজুয়েলার মতো দুর্বল রাষ্ট্র ভেবে ভুল করা উচিত নয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন মোহাম্মদ জাফর আসাদি, যিনি খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের পরিদর্শন বিষয়ক উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ইরান এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি কৌশলগত অঞ্চল। এখানে বাইরের কোনো শক্তির একতরফা মতামত বা নিয়ন্ত্রণ চাপানোর অধিকার নেই।
আসাদি আরও অভিযোগ করেন, কিছু শক্তি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চায়, যা কখনোই সফল হবে না। তার ভাষায়, এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং তা ইরান কখনো মেনে নেবে না। তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি কোনো বিচ্ছিন্ন বা দুর্বল অঞ্চল নয়। এখানে গিয়ে সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বা দখলের চেষ্টা সফল হবে না। তিনি বলেন, “এটি ভেনেজুয়েলা নয়, যেখানে গিয়ে সম্পদ লুট করা সম্ভব।”
আসাদি দাবি করেন, পারস্য উপসাগরের সম্পদ এবং বিশেষ করে জ্বালানি সম্পদ কোনো একক দেশের স্বার্থে ব্যবহারের বিষয় নয়। বরং এটি একটি আঞ্চলিক ও কৌশলগত সম্পদ, যা আন্তর্জাতিক ভারসাম্যের অংশ। তিনি আরও বলেন, ইরান ও তার জনগণ যেকোনো ধরনের বাহ্যিক চাপ বা হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বৈশ্বিক শক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও জ্বালানি এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে এই বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।