কুমিল্লায় সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের পর চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফেলে দেওয়ায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে র্যাব। সোমবার (২৭ এপ্রিল) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ২৪ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট বৈরাগী। পরদিন সকালে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশের ফুটপাথ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে র্যাব-১১ কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। রোববার রাতে অভিযানে মোহাম্মদ সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও মোহাম্মদ সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় একটি সিএনজি অটোরিকশা, চাপাতি, সুইচ গিয়ার, ফোর্জিং হ্যামারসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সদস্য। তারা কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের লক্ষ্য করে ছিনতাই ও ডাকাতি করত। ঘটনার রাতে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নিয়ে তারা বুলেট বৈরাগীকে সিএনজিতে তুলে নেয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তার কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে কোটবাড়ি এলাকায় চলন্ত সিএনজি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে র্যাব। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের মামলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি নগর এলাকায় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।