মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা দেশের অন্যতম স্বাস্থ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে ঘিরে দখল ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করে তাকে সরিয়ে দিয়ে নতুন করে একটি কথিত ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি দখলের তৎপরতা শুরু হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে সাভারের মির্জানগরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অর্ধশতাধিক ব্যক্তির উপস্থিতিতে এক ধরনের মব পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এ সময় ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ ও পরিচালক ডা. মাহবুব জুবায়েরকে চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে ।
ডা. নাজিমউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে অপসারণের পেছনে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও শিরিন হকের ভূমিকা ছিল। তিনি দাবি করেন, মবের মাধ্যমে তাকে হুমকি দিয়ে একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয়, যা প্রকৃত অর্থে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ নয়।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ট্রাস্ট আইন-১৮৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠাতা ছাড়া নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের বিধান না থাকলেও সাত সদস্যের একটি নতুন বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কেউ নেই। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টরা নিজেরাই নিজেদের ট্রাস্টি হিসেবে অনুমোদন দিয়েছেন।
এছাড়া কথিত বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে আগে বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। প্রতিষ্ঠানটির ফার্মাসিউটিক্যালস খাতসহ বিভিন্ন সম্পদ একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানে অডিট কার্যক্রম চালু করে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর থেকেই একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাকে সরিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিষয়টি আইনগত বলে মন্তব্য করলেও বিস্তারিত জানাতে এড়িয়ে গেছেন।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।