সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে একই পরিবারের তিন শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বাবা সরাফত আলী প্রথমে তার তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর নিজেও বিষপান করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রজনী লাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তিন শিশু হলো—সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০) এবং দুই ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাতের কোনো একসময় সরাফত আলী তার তিন সন্তানকে বিষপান করান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি নিজেও বিষপান করেন। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তিন শিশুকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, সরাফত আলীকে বাদাঘাটের ওই চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাসাদ আহমেদ বলেন, সকাল ৮টার দিকে তিন শিশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের বিষপান করানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান, ভোরে নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘটনাটি জানান। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুদের বাবা তাদের বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করেছেন। শিশুদের মা প্রবাসে থাকেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তিন-চার দিন আগে দেশে এসেছিলেন এবং পরে আবার চলে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে সরাফত আলীর বিরুদ্ধে জুয়া ও মাদকাসক্তির অভিযোগও করা হয়েছে।
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে যায়। সেখানে তিন শিশুকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর আগেই তাদের বাবা স্বজনদের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চলে গিয়েছিলেন।
তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ বলেন, তিন শিশুর মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত করছে।
রূপক/ 19-09-26