পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে অংশ নিতে নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে বিমানে করে রাজধানী ঢাকায় আসছেন পেশাদার কসাইরা। সময় বাঁচানো ও স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে এবার অনেক কসাই আকাশপথকেই বেছে নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ঈদুল আজহার সময় সৈয়দপুরের শতাধিক দক্ষ কসাই ঢাকায় গিয়ে পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো ও মাংস টুকরো করার কাজ করেন। ঈদের দিনসহ পরবর্তী তিন দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কাজ করে একটি দল গড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকে।
কসাইদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় সাধারণত পশুর দামের ওপর ভিত্তি করে মজুরি নির্ধারণ করা হয়। প্রতি হাজার টাকায় ২০০ টাকা হারে পারিশ্রমিক নেওয়া হয়। সে হিসেবে ১ লাখ টাকার পশু কাটার জন্য মজুরি হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা।
সৈয়দপুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাদিম কোরাইশি জানান, ঈদের আগের দিন ১০ সদস্যের একটি দল নিয়ে বিমানে ঢাকায় যাবেন তিনি। ইতোমধ্যে টিকিটও কাটা হয়েছে। ঢাকায় গিয়ে দলটি কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করবে।
তিনি বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরাও ঢাকায় গিয়ে কোরবানির কাজ করতেন। পশু জবাই, চামড়া অক্ষত রেখে ছাড়ানো ও মাংস নিখুঁতভাবে কাটার ক্ষেত্রে সৈয়দপুরের কসাইদের আলাদা সুনাম রয়েছে।”
গোলাহাট এলাকার কসাই সুলতান জানান, ঢাকার অনেক পরিবার আগেভাগেই বুকিং দিয়ে রাখেন। তিনি ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি দল নিয়ে বিমানে ঢাকায় পৌঁছেছেন।
পশু কাটায় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে প্রতিবছর ঈদের সময় রাজধানীতে সৈয়দপুরের কসাইদের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। ফলে বাড়তি আয়ের আশায় ঈদের মৌসুমে তারা ঢাকায় ব্যস্ত সময় পার করেন।