যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা ইরান: ইসমাইল বাঘাই
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, বেশ কয়েকটি বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অগ্রগতি হলেও তা কোনোভাবেই চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার ইঙ্গিত নয়। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র সেটি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না।
সোমবার তেহরানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাঘাই বলেন, সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হলে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তবে বর্তমান পর্যায়ে মূল লক্ষ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটানো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ফোনালাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরান। বাঘাইয়ের অভিযোগ, ইসরায়েল আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, “জায়নবাদী গোষ্ঠীগুলো যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি ব্যাহত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আমরা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপের আশঙ্কাও করছি।” ইরানি মুখপাত্র আরও বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতকে উসকে দেয় এমন বিভিন্ন দেশের বক্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার পাচ্ছে, যা ওয়াশিংটনের অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বাঘাই বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে অঙ্গীকার রক্ষা করবে-এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তেহরান প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
বাঘাইয়ের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় যে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আলোচনায় লেবাননের চলমান সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার ভাষায়, “এই মুহূর্তে পারমাণবিক ইস্যু নয়, যুদ্ধ বন্ধ করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে বাঘাই উল্লেখ করেন, প্রতিপক্ষকে কীভাবে এবং কখন জবাব দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরান নিজস্ব কৌশল অনুযায়ী গ্রহণ করবে।