পবিত্র ঈদুল আজহায় কুরবানির মাংস দিয়ে নানা সুস্বাদু খাবার তৈরি হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে পরিমিত খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। বিশেষ করে অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়া হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হজমজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিক কেয়ার ক্লিনিকের সিনিয়র নিউট্রিশনিস্ট ও বায়োজিন কসমেসিউটিকেলসের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান ইফাত বলেন, গরু ও খাসির মাংসে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স থাকায় এটি শরীরের জন্য উপকারী। তবে অতিরিক্ত লাল মাংস গ্রহণ শরীরে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরল বাড়িয়ে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তিনি জানান, ৬০ থেকে ৭০ কেজি ওজনের সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত মাংস খেতে পারেন। তবে একবারে না খেয়ে তিন বেলায় ভাগ করে খাওয়া ভালো। একই দিনে ডিম, মুরগি বা অন্য প্রোটিনজাতীয় খাবার খেলে মাংসের পরিমাণ ২০০ গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যদিকে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি, লিভার বা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দিনে ৬০ থেকে ৯০ গ্রামের বেশি লাল মাংস না খাওয়াই ভালো বলে মত দেন এই পুষ্টিবিদ।
তিনি আরও বলেন, প্রতি ৫০ গ্রাম মাংসের সঙ্গে অন্তত ১০০ গ্রাম সবজি বা সালাদ খাওয়া উচিত। এতে হজম ভালো হয় এবং অতিরিক্ত চর্বির প্রভাব কমে।
স্বাস্থ্যকর রান্নার পরামর্শ দিয়ে ইসরাত জাহান ইফাত বলেন, মাংস রান্নার আগে লেবুর রস, টকদই, আদা, রসুন বা ভিনেগার দিয়ে মেরিনেট করলে তা সহজপাচ্য হয়। কম তেলে রান্না করা এবং অতিরিক্ত ঘি-মাখন এড়িয়ে চলা উচিত। ভাজাভুজির বদলে গ্রিল, বেক, স্টিম বা স্ট্যু ধরনের রান্না তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর।
ভারী খাবারের পর বোরহানি, টকদইয়ের ঘোল, জিরাপানি বা ডাবের পানি খাওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি কোমল পানীয় ও কৃত্রিম রঙযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।