ওসমান হাদী হত্যা: রহস্য উন্মোচনে জোর তদন্তের দাবি রাশেদ খান
ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং অভিযুক্তের সঙ্গে তার পরিচয়ের সূত্র নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন রাশেদ খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি।
পোস্টে রাশেদ খান প্রশ্ন তোলেন, অভিযুক্ত ফয়সালের সঙ্গে ওসমান হাদীর পরিচয় কীভাবে হয়েছিল এবং কে তাকে ওসমান হাদীর কাছে নিয়ে গিয়েছিল। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে কোনো তথ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়েও জানতে চান তিনি। তার ভাষ্য, ঘটনার পর বিভিন্ন মহল থেকে নানা বক্তব্য ও বিশ্লেষণ সামনে এলেও ফয়সাল কীভাবে ওসমান হাদীর আশপাশে অবস্থান করার সুযোগ পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানতে চান, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সদস্যের মাধ্যমে অভিযুক্ত ওই সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, নাকি অন্য কোনো মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল।
রাশেদ খান বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর সামনে না এলে জনমনে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ওসমান হাদীর পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পোস্টে তিনি ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের বক্তব্যের প্রসঙ্গও টানেন। তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়ে থাকে, তবে সেই অভিযোগের ভিত্তি কী, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, কোনো বক্তব্য বা অভিযোগের পেছনে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব।
রাশেদ খান আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। এতে করে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে তিনি ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দোষারোপ বা ‘ব্লেমগেম’-এর সমালোচনাও করেন। তার মতে, এমন একটি স্পর্শকাতর ঘটনায় কোনো পক্ষকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার চেষ্টা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।
তিনি লিখেছেন, ওসমান হাদীর স্মৃতি ও আদর্শকে সামনে রেখে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, ‘শত্রুর জন্যও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার’ যে মূল্যবোধ ওসমান হাদী ধারণ করতেন, সেই নীতির আলোকে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পোস্টে রাশেদ খান আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ওসমান হাদীর নাম ও ঘটনাকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদীকে অনুসরণ বা ধারণ করার দাবি করছেন, তাদের উচিত তার জীবদ্দশায় উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ, সমালোচনা ও বক্তব্যের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা।
তার মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওসমান হাদী যেসব অভিযোগ বা সমালোচনা করেছিলেন, সেগুলোর বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া হলে জনমনে বিদ্যমান অনেক প্রশ্নেরও উত্তর মিলবে। পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খান বলেন, ওসমান হাদীর নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা নয়, বরং তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট সবার প্রধান লক্ষ্য।