এবার ‘০০৭’ অবতারে ট্রাম্প, সামাজিক মাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে। এবার নিজেকে জনপ্রিয় কাল্পনিক গুপ্তচর চরিত্র James Bond–এর আদলে উপস্থাপন করে নতুন করে নজর কেড়েছেন তিনি। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ সম্প্রতি একটি ছবি শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেখানে তাকে ‘ট্রাম্প ০০৭’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
শুধু ট্রাম্পই নন, এ প্রচারণায় যুক্ত হয়েছে The White House-এর অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টও। সেখানে প্রকাশিত একটি ডিজিটাল ইলাস্ট্রেশনে ট্রাম্পকে কালো টাক্সিডো পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। ছবিতে তাকে জেমস বন্ড ধাঁচের ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবির নিচে সোনালি অক্ষরে লেখা ছিল তার বহুল ব্যবহৃত রাজনৈতিক স্লোগান-‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম The Independent-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক প্রতীকের সঙ্গে নিজের তুলনা করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের একটি প্রবণতা রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময় তিনি নিজেকে Elvis Presley, Winston Churchill, Mother Teresa এবং Jesus Christ-এর সঙ্গে তুলনা করে বা সে ধরনের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট শেয়ার করে আলোচনায় এসেছেন।
জেমস বন্ড অবতারের পাশাপাশি ট্রাম্প সম্প্রতি আরেকটি পোস্টে নিজেকে ‘দ্য গ্রেটেস্ট অ্যাট্রাকশন’ বা ‘সর্বশ্রেষ্ঠ আকর্ষণ’ হিসেবেও উল্লেখ করেন। একটি জনসভার ছবি শেয়ার করে তিনি এ দাবি করেন, যা তার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললেও সমালোচকদের মধ্যেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ধরনের প্রচারণা তার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং কৌশলেরই অংশ। রাজনীতি, বিনোদন এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতিকে একত্র করে তিনি নিজের জন-ইমেজকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন। মজার বিষয় হলো, ঠিক এমন সময়ে ট্রাম্পের ‘০০৭’ অবতার সামনে এলো, যখন Amazon MGM Studios নতুন জেমস বন্ড খোঁজার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন চরিত্রটিতে অভিনয় করা Daniel Craig-এর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের আগ্রহ তুঙ্গে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ রাজনীতি ও পপ সংস্কৃতির মিশ্রণে তার স্বতন্ত্র প্রচার কৌশলের আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল।