জোতার স্মৃতিকে শক্তি বানিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে পর্তুগাল
আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন উদ্দীপনায় প্রস্তুতি শুরু করেছে পর্তুগাল। তবে দলটির অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এমন একজন, যিনি আর এই পৃথিবীতে নেই। গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো লিভারপুল ও পর্তুগাল জাতীয় দলের তারকা দিয়োগো জোতার স্মৃতিই এখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। পর্তুগাল মিডফিল্ডার রুবেন নেভেস জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে ভালো করার পেছনে জোতার স্মৃতি এবং তার প্রতি দলের আবেগ বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তার মতে, কঠিন মুহূর্তে অতিরিক্ত প্রেরণা জোগাতে জোতার স্মৃতি হবে দলের অন্যতম শক্তির উৎস।
নেভেস বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে অনেকবার আলোচনা করেছি। কখনো কখনো বাড়তি শক্তি পাওয়ার জন্য বিশেষ কিছু আঁকড়ে ধরতে হয়। জোতার স্মৃতি আমাদের জন্য ঠিক তেমনই। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এটি আমাদের এগিয়ে যেতে এবং লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।” গত বছর উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল। পেনাল্টি শুটআউটে নেভেসের সফল শটেই নিশ্চিত হয়েছিল ট্রফি জয়। সেই স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোল ছিল সেটি। তবে বিশ্বকাপে এমন পরিস্থিতি এড়াতে চান তিনি।
নেভেসের ভাষায়, “বিশ্বকাপে যদি আবার এমন কোনো গোল করতে পারি যা দলকে এগিয়ে নিতে বা শিরোপা জিততে সাহায্য করে, তাহলে অবশ্যই দারুণ হবে। তবে আমি চাই ৯০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচ জিততে, যেন পেনাল্টি শুটআউট পর্যন্ত যেতে না হয়। আমাদের পুরো মনোযোগ দলগত অর্জনের দিকে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে পর্তুগালকে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বে দলটি ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে বড় আসরের চাপকে বাড়তি বোঝা হিসেবে দেখছেন না আল-হিলালের এই মিডফিল্ডার।
তিনি বলেন, “জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ই বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে অভ্যস্ত। আমাদের কয়েকজন ফুটবলার সম্প্রতি ক্লাব পর্যায়ে বড় বড় শিরোপা জিতেছে। আমরা তরুণ হলেও অভিজ্ঞ একটি দল। তাই চাপকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছি।” বিশ্বকাপে পর্তুগালের লক্ষ্য নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন নেভেস। তার মতে, দলের একমাত্র লক্ষ্য ফাইনালে ওঠা এবং ট্রফি জয় করা।
আমাদের লক্ষ্য ফাইনালে পৌঁছানো, বিশ্বকাপ জেতা এবং শিরোপা নিয়ে দেশে ফেরা। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলগত সাফল্যই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বলেন তিনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে পর্তুগালের সেরা সাফল্য ১৯৬৬ সালে। কিংবদন্তি ইউসেবিওর নেতৃত্বে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল দলটি। পরে ২০০৬ সালে লুইস ফিগোর নেতৃত্বে সেমিফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত চতুর্থ স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
গত দুই দশকে বিশ্বকাপে আর সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি পর্তুগাল। তবে এই সময়ে তারা ২০১৬ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি দুইবার উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপাও জিতেছে। ফলে এবার বিশ্বকাপেও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে দলটি। আগামী ১৭ জুন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।