মেসিকে এগিয়ে নেয় সাফল্যের অদম্য ক্ষুধা, বললেন সাবেক সতীর্থ রদ্রিগেজ
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সফল খেলোয়াড় লিওনেল মেসি ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসেও থেমে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না। বয়স ৩৯ ছুঁইছুঁই হলেও নতুন লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে চলেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তাঁর এই অদম্য মানসিকতার পেছনে কী কাজ করে, সে বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার ম্যাক্সি রদ্রিগেজ। দীর্ঘদিন জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলার সুবাদে মেসিকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন রদ্রিগেজ। তাঁর মতে, মেসির সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আরও অর্জনের ক্ষুধা এবং নতুন ইতিহাস গড়ার তাড়না।
ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রদ্রিগেজ বলেন, মেসি কখনো অর্জনেই সন্তুষ্ট থাকেন না। প্রতিটি সাফল্যের পরও তিনি নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেন এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান। দেশের হয়ে খেলার প্রতি তাঁর আবেগ ও দায়িত্ববোধই তাঁকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। রদ্রিগেজ ও মেসির সম্পর্কের শিকড়ও বেশ গভীর। দুজনেই আর্জেন্টিনার রোজারিও শহর থেকে উঠে এসেছেন এবং ফুটবলের প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েছেন নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজের একাডেমিতে। পরবর্তীতে তাঁদের পথ আলাদা হলেও জাতীয় দলে এসে আবার একত্রিত হন।
২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে একসঙ্গে খেলেছেন এই দুই ফুটবলার। ২০০৬ বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে ম্যাচে রদ্রিগেজের পরিবর্তে মাঠে নেমেই বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল মেসির। সেই স্মৃতিও এখনও উজ্জ্বল হয়ে আছে সাবেক এই উইঙ্গারের কাছে। রসিকতা করে রদ্রিগেজ বলেন, মেসির সঙ্গে হাইফাইভ করার সময় তিনি নাকি নিজের ‘জাদু’ মেসির মধ্যে ছড়িয়ে দিতেন। তবে মজা করলেও মেসির সাফল্যের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁর মানসিক দৃঢ়তা ও জয়ের আকাঙ্ক্ষাকে।
রদ্রিগেজের ভাষ্য, বিশ্বকাপ জয়ের পরও মেসির লক্ষ্য শেষ হয়ে যায়নি। তিনি আবারও বিশ্বসেরার মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করতে চান। অর্জনের ক্ষুধাই তাঁকে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে এবং প্রতিনিয়ত সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। সাবেক এই আর্জেন্টাইন তারকার মতে, মেসির অসাধারণ ক্যারিয়ারের পেছনে প্রতিভার পাশাপাশি রয়েছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।