কোরবানি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এক গভীর নৈতিক ও দার্শনিক প্রশ্ন: ফরহাদ মজহার
লেখক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার কোরবানি ও হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে কেন্দ্র করে নতুন একটি গ্রন্থের খসড়া সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে প্রস্তুত করা এই গ্রন্থের নাম ‘কোরবানি ও ইব্রাহিম (আ.): ধর্মের বয়ান ও দর্শনের তর্ক’।
নিজের ফেসবুক পোস্টে ফরহাদ মজহার জানান, এর আগে ‘ইসলামের কোরবানি: মনের পশু তত্ত্ব ও খ্রিস্ট ধর্ম’ শিরোনামে তিনি একাধিক লেখা প্রকাশ করেছিলেন। সেই চিন্তার ধারাবাহিকতায় এবার কোরবানিকে ঘিরে ধর্মতত্ত্ব ও দর্শনের বিভিন্ন তর্ক, বয়ান ও জিজ্ঞাসার একটি বিস্তৃত পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, গ্রন্থটির মূল প্রশ্ন হলো-হজরত ইব্রাহিম (আ.) কেন ধর্ম ও দর্শন উভয় ক্ষেত্রেই এত গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র এবং সেই চরিত্রকে বোঝার ক্ষেত্রে কোরবানির ভূমিকা কী। ফরহাদ মজহারের মতে, বাংলাদেশে কোরবানি নিয়ে প্রচলিত ‘মনের পশু’ তত্ত্বের বিতর্ক অত্যন্ত সীমিত ও সংকীর্ণ। তিনি মনে করেন, কোরবানি বিষয়ে সমাজে প্রচলিত আলোচনার একাংশ কোরবানিকে কেবল পশু জবাই ও মাংস ভোগের উৎসবে পরিণত করেছে, অন্য অংশ কোরবানিকে শুধু ‘মনের পশু’ কোরবানি দেওয়ার প্রতীকী ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ রাখছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই দুই অবস্থানই কোরবানির গভীর ধর্মতাত্ত্বিক, নৈতিক ও দার্শনিক তাৎপর্যকে আড়াল করে। কোরবানির ভেতর আল্লাহর নৈকট্য, নফস, সম্পদের প্রতি আসক্তি, সন্তানের প্রতি মমত্ব, প্রাণের মূল্য, সামাজিক বণ্টন, দরিদ্রের অধিকার এবং ইব্রাহিমি একত্ববাদের মতো প্রশ্ন একসঙ্গে উপস্থিত থাকে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বইটির প্রথম খণ্ডে দর্শনের বিতর্কে প্রবেশের আগে কোরবানিকে ধর্মের নিজস্ব ভাষা, কাহিনি, রেওয়ায়েত ও কালামের আলোকে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। কারণ আধুনিক নৈতিকতার মানদণ্ড দিয়ে ধর্মকে বিচার করতে গেলে অনেক সময় ধর্মীয় অভিজ্ঞতা ও বয়ানের স্বতন্ত্রতা উপেক্ষিত হয়। এছাড়া গ্রন্থটিতে বাইবেল ও কোরআনে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সন্তান কোরবানির ঘটনার বর্ণনার মধ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। লেখকের মতে, এই দুই বয়ান থেকে ভিন্ন ধরনের নৈতিক ও দার্শনিক প্রশ্নের জন্ম হয়, যা বোঝা কোরবানি নিয়ে গভীর চিন্তার জন্য জরুরি।
পোস্টের শেষাংশে ফরহাদ মজহার বলেন, কোরবানি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি একই সঙ্গে একটি বড় নৈতিক, ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক ইস্যু।