রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের
রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধকে ঘিরে তিন দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ৯ থেকে ১১ মে পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিকমাধ্যম এক্সে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সহকারী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে টেলিফোন আলোচনার মাধ্যমেই এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা কিয়েভের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন বলে জানান তিনি। রুশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে হওয়া ফোনালাপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দুই দেশের ঐতিহাসিক মিত্রতা এবং রাশিয়ার ‘ভিক্টরি ডে’ উদযাপনকে ঘিরে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির বিষয়টি আলোচিত হয়।
এর আগে রাশিয়া ৯ মে বিজয় দিবস উপলক্ষে একতরফাভাবে দুই দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। অন্যদিকে ইউক্রেনও আগে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিল বলে দাবি করলেও, মস্কো তা গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করে কিয়েভ। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন। পাশাপাশি উভয় দেশ এক হাজার করে যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বন্দি বিনিময়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলেনস্কিও।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রতিদিনই সমঝোতার সম্ভাবনা বাড়ছে। তার আশা, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দিতে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় দ্রুত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এখনো পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যায়নি।
বর্তমানে যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে। রাশিয়া অঞ্চলটির অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং অবশিষ্ট অংশ থেকেও ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। তবে কিয়েভ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া হবে না।
এদিকে ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে মিয়ামিতে পৌঁছেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।