ফিফা ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের সর্বোচ্চ মূল্যের টিকিট এখন বিক্রি হচ্ছে ৩২ হাজার ৯৭০ ডলারে, যা আগের নির্ধারিত দামের প্রায় তিনগুণ।
এর আগে একই শ্রেণির টিকিটের মূল্য ছিল ১০ হাজার ৯৯০ ডলার। নতুন মূল্য ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
মার্কিন কংগ্রেস সদস্য নেলি পু এবং ফ্র্যাংক পালোনি জুনিয়র ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো-কে চিঠি দিয়ে টিকিট মূল্য নির্ধারণে অস্বচ্ছতা এবং ভক্তদের বিভ্রান্তির অভিযোগ তুলেছেন।
চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, ফিফার পরিবর্তিত নীতিমালা ও মূল্য কাঠামোর কারণে সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিট সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে ইনফান্তিনো আগেই বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, কম মূল্যে টিকিট বিক্রি হলে তা পুনরায় বেশি দামে বিক্রির ঝুঁকি থাকে।
তবে সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় ক্রীড়া আসরের টিকিটের তুলনায় বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেশি।
ফিফার অনুমোদিত রিসেল প্ল্যাটফর্মে ফাইনালের একটি টিকিটের দাম ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। যদিও এসব মূল্য সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে না ফিফা, তবে প্রতিটি কেনাবেচায় সংস্থাটি ফি গ্রহণ করে।
শুধু ফাইনাল নয়, বিশ্বকাপের অন্যান্য ম্যাচের টিকিটের দামও বেশ চড়া। যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচের সর্বনিম্ন টিকিট মূল্য ধরা হয়েছে ১ হাজার ১২০ ডলার। অন্যদিকে সেমিফাইনালের টিকিটের দাম ২ হাজার ৭০৫ থেকে ১১ হাজার ১৩০ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যাতায়াতের ট্রেন ভাড়াও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শুরুতে রাউন্ড ট্রিপ ভাড়া ১৫০ ডলার নির্ধারণ করা হলেও সমালোচনার মুখে তা কমিয়ে ১০৫ ডলার করা হয়। তবুও এটি স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি।
২০২৬ বিশ্বকাপে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের ম্যাচও এই ভেন্যুতে আয়োজন করা হবে।