সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে চাকরির বয়স বৃদ্ধি, প্রথম মন্ত্রিসভায় একাধিক সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অংশগ্রহণ এবং সরকারি চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সোমবার প্রথমবার রাজ্য সচিবালয় নবান্নে প্রশাসনিক কাজ শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নের ১৪ তলায় অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রমাণিক। যদিও এখনো তাঁদের দপ্তর বণ্টন করা হয়নি।
বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরকে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী জমি হস্তান্তর করা হবে।
এদিন রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার ঘোষণাও দেয়। এর মধ্যে রয়েছে আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও এবং প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার যেসব প্রকল্পে অংশ নেয়নি, নতুন সরকার সেগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নেবে।
এছাড়া দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ থাকার কারণে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, বহু শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থী বয়সসীমা পেরিয়ে গেছেন, তাঁদের সুযোগ দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে দলীয় কর্মসূচি শেষে নবান্নে পৌঁছালে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। পরে তিনি মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে শুভেন্দু লেখেন, রাজ্যে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
দুপুরে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে বিজেপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা ছিল। সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত বিজেপির ৩২১ কর্মীর পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এছাড়া জনগণনার কাজ দ্রুত শুরুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আগের সরকার কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণনার প্রস্তুতি নেয়নি। নতুন সরকার অবিলম্বে সেই প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে জানান তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁর সরকার ‘আমিত্বে’ নয়, বরং ‘আমরা’ নীতিতে বিশ্বাসী। সমালোচনার ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের আস্থা অর্জন করাই সরকারের লক্ষ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।