১০ দফা দাবিতে গণপূর্ত ভবনে ইলেকট্রিক্যাল কন্ট্রাক্টরদের বিক্ষোভ
সিডিউল রেট সংশোধন, প্যাকেজ টেন্ডার বাতিল, তালিকাভুক্তি ও নবায়ন ফি প্রত্যাহার এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া বিল পরিশোধসহ ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (গণপূর্ত)। সোমবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পূর্ত ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন। পরে প্রধান প্রকৌশলীর মাধ্যমে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
সমাবেশে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ খান স্মারকলিপির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইলেকট্রিক্যাল পণ্য ও যন্ত্রাংশের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু ২০২২ সালের পর থেকে ইএম রেট সিডিউলে কোনো সমন্বয় হয়নি। ফলে ঠিকাদাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং উন্নয়নকাজের গুণগত মানও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নতুন রেট সিডিউল অনুমোদন না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত রেট পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান তিনি। সমাবেশে আরও দাবি জানানো হয়, প্যাকেজ টেন্ডার পদ্ধতি বাতিল করে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ইএম) কাজের জন্য পৃথক টেন্ডারের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্যের পণ্য ক্রয় কিংবা নির্দিষ্ট কোম্পানির পণ্য ব্যবহারে বাধ্য না করার আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনের নেতারা নতুন তালিকাভুক্তি ও নবায়ন ফি বাতিল করে আগের নিয়মে ফিরে যাওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি প্রতিটি ডিভিশনে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলেন তারা। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতারা অভিযোগ করেন, গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন ডিভিশনে ৭ থেকে ৮ বছরের বকেয়া বিল এখনো পরিশোধ হয়নি। দ্রুত এসব পাওনা পরিশোধ না হলে অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সমাবেশে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সিনিয়র সহ-সভাপতি বেলাল হোসেন দুলাল, সহ-সভাপতি প্রদীপ সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাইজুস সুমন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম সোরাবসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে আধুনিক ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে ঠিকাদারদের যৌক্তিক দাবিগুলোর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।