জ্বালানি সাশ্রয়, আমদানি কমানো এবং স্বর্ণ কেনা সীমিত করার আহ্বানের পর বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজার। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির মানও রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় ভারতের আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত গত মাসের শেষ দিকে জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও আপাতত ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার ভারতের প্রধান শেয়ারসূচক নিফটি-৫০ সূচক ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৮১৫ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সময়ে সেনসেক্স সূচক প্রায় ১ হাজার ২৭৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ হারিয়ে দাঁড়ায় ৭৬ হাজার ১৫ দশমিক ২৮ পয়েন্টে।
অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি ডলারে ৯৫ দশমিক ৩১ রুপিতে পৌঁছেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি এক দিনের ব্যবধানে রুপির ইতিহাসের অন্যতম বড় পতন। এর আগে গত ২৭ মার্চ একই ধরনের বড় দরপতন দেখা গিয়েছিল। বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়ে যায় রোববারের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ ডলারে পৌঁছে যায়।
একজন বাজার বিশ্লেষক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তার মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি প্রচেষ্টা চললেও তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে না নামা ভারতীয় বাজারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার ভারতের ১৬টি প্রধান খাতের মধ্যে ১৩টিতেই দরপতন হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনী শেয়ারে বিক্রির চাপ সবচেয়ে বেশি ছিল। এ দুই শ্রেণির শেয়ারের দাম গড়ে প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দর ২ দশমিক ৩ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। একই সঙ্গে ভারতের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর শেয়ার দরও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ভ্রমণ ও পর্যটন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন হোটেল, পর্যটন ও ভ্রমণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ১ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এছাড়া দেশটির একটি বড় বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থার শেয়ার দর প্রায় ৫ শতাংশ কমে গেছে।
সরকারের স্বর্ণ কেনা কমানোর আহ্বানের প্রভাবে গহনা খাতেও বড় ধস নেমেছে। খাতসংশ্লিষ্ট বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর ৬ দশমিক ৭ থেকে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এদিকে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় ভারতের বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শেয়ার দর ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এর প্রভাবে সরকারি ব্যাংক খাতের সূচকও ২ দশমিক ৫ শতাংশ নিচে নেমে গেছে। তবে সামগ্রিক মন্দাভাবের মধ্যেও কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। দেশটির একটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি ত্রৈমাসিক মুনাফা বৃদ্ধির খবরে কৃষি রাসায়নিক প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
-এনআর-