ঈদে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশেষ ‘ঈদ বোনাস’ প্রদান কার্যক্রমে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে তিনি পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগর জীবনের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অবদান অনস্বীকার্য। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে তারা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখছেন। অথচ সমাজের নানা স্তরে এখনও এই শ্রমজীবী মানুষদের প্রতি অবহেলা ও বৈষম্যের চিত্র বিদ্যমান।
প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র উৎসবভিত্তিক সহায়তা নয়, বরং তাদের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিতে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, ঝুঁকি ভাতা এবং সন্তানদের শিক্ষাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। ড্রেন পরিষ্কার, বর্জ্য অপসারণ ও সড়ক পরিচ্ছন্ন রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও অধিকাংশ সময় তারা সামাজিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত থাকেন। ঈদ বোনাস প্রদান উদ্যোগটি তাদের প্রতি সম্মান ও মানবিক সহমর্মিতার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলেও মত দেন তারা।
অনুষ্ঠানে কয়েকজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জানান, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেও অনেক সময় ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা পান না। তবুও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ঈদের আগে এমন সহায়তা তাদের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দ এনে দিয়েছে বলেও জানান তারা।
বিশেযজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা শুধু একটি পেশার মানুষ নন; তারা নগর সভ্যতার নীরব যোদ্ধা। ময়লা-আবর্জনা, দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেও তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাদের একটি বড় অংশ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকের নেই স্থায়ী বাসস্থান, পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা কিংবা সন্তানদের শিক্ষার নিশ্চয়তা। সমাজে এখনও তাদের একটি অংশকে অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়, যা একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করা হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের আরও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া জরুরী।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।