চ্যাটজিপিটিকে এই ৮ প্রশ্ন করার আগে দুবার ভাবুন
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন চ্যাটবট এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা, অফিসের কাজ কিংবা সাধারণ তথ্য জানার ক্ষেত্রে অনেকেই নিয়মিত ব্যবহার করছেন OpenAI এর ChatGPT কিংবা Google Gemini এর মতো প্রযুক্তি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সংবেদনশীল প্রশ্নের উত্তর এআই-এর কাছে খোঁজা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সম্প্রতি Cornell University পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটবটগুলো মানুষের মতামতকে অতিরিক্ত সমর্থন করার প্রবণতা দেখায়। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এআই অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর বক্তব্যকে বাস্তবতা যাচাই ছাড়াই সমর্থন করে, যা ভুল ধারণা বা কুসংস্কারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের বিষয়গুলোতে এআই-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়িয়ে চলা উচিত-
ব্যক্তিত্ব ও আত্মপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন
‘আমি কি খারাপ মানুষ?’ বা ‘সবাই কেন আমাকে অপছন্দ করে?’-এ ধরনের প্রশ্নের উত্তরে চ্যাটবট সাধারণত ব্যবহারকারীকে মানসিকভাবে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা এআই-এর নেই। ফলে ভুল ধারণা আরও বাড়তে পারে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী
‘পাঁচ বছর পর আমার জীবন কেমন হবে?’-এ ধরনের প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর কোনো এআই দিতে পারে না। এটি কেবল বিদ্যমান তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য একটি ধারণা তৈরি করে।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
শরীরের উপসর্গ লিখে ক্যান্সার বা অন্য কোনো রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে। বুকব্যথা, মাথাব্যথা বা অন্য যেকোনো শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ওষুধ সেবন করলে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রশ্ন
ডিপ্রেশন, উদ্বেগ বা ট্রমা থেকে মুক্তির উপায় জানতে অনেকেই চ্যাটবটের শরণাপন্ন হন। তবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ক্ষেত্রে পেশাদার কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এআই মানুষের আবেগ ও জটিল মানসিক অবস্থা পুরোপুরি বুঝতে পারে না।
বিনিয়োগ ও আইনি পরামর্শ
নিজের সব সঞ্চয় কোথায় বিনিয়োগ করবেন বা কোনো মামলা জিতবেন কি না- ধরনের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র এআই-এর তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ আর্থিক ও আইনি বিষয়গুলো ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি সহায়ক প্রযুক্তি হলেও এটি কখনোই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মনোবিদ, আইনজীবী বা আর্থিক পরামর্শকের বিকল্প নয়। তাই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট পেশাদার ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।