নতুন আয়কর কাঠামো ঘোষণা: কারা স্বস্তিতে, কার বাড়বে চাপ?
২০২৬-২৭ কর বর্ষের জন্য নতুন আয়কর হার ও করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় নিম্ন আয়ের করদাতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বাড়লেও মধ্যম ও উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ আগের মতোই বহাল থাকছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকার ঘোষিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী, একজন সাধারণ করদাতা বছরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করলে কোনো আয়কর দিতে হবে না। এর বেশি আয় হলেই ধাপে ধাপে ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপ করা হবে।
যেভাবে কর নির্ধারণ হবে
নতুন হার অনুযায়ী-প্রথম ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত, পরবর্তী ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ কর, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ কর, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ কর, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ কর, অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ কর
বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্য বাড়তি সুবিধা
নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীদের জন্য এ সীমা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই অভ্যুত্থানে আহত “জুলাই যোদ্ধাদের” জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা রাখা হয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতা বা মাতা প্রত্যেক সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা পাবেন। কর না দিলেও ন্যূনতম কর বাধ্যতামূলক
করযোগ্য আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলেই করদাতাকে ন্যূনতম কর দিতে হবে। পুরোনো করদাতাদের জন্য এ হার ৫ হাজার টাকা এবং নতুন করদাতাদের জন্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কী বলছেন অর্থনীতিবিদরা
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় করমুক্ত আয়ের সীমা কিছুটা বাড়ানো হলেও শহুরে মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় এটি এখনও পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে প্রকৃত স্বস্তি কতটা মিলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, কর কাঠামো আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ডিজিটালবান্ধব করা গেলে নতুন করদাতার সংখ্যা বাড়বে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনাও আরও শক্তিশালী হবে।
সাধারণ মানুষের জন্য কী বার্তা?
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, নতুন আয়কর কাঠামোতে সরকার একদিকে নিম্ন আয়ের মানুষকে কিছুটা সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ের ধারাবাহিকতাও বজায় রাখতে চেয়েছে। তবে বাস্তব জীবনের ব্যয়ের সঙ্গে করমুক্ত সীমার সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর দাবি উঠতে পারে।