সিলেটে ফাহিমা হত্যা: শিশু নিরাপত্তা ও নৃশংসতার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ
সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শিশু নিরাপত্তা, সামাজিক অবক্ষয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিহত ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। ঘটনার দিন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শিশুটি একা ছিল বলে জানা যায়। পরে সে নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং পরবর্তীতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি নিহত শিশুটির প্রতিবেশী ও আত্মীয় সম্পর্কেও ছিলেন বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যে ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা উঠে এসেছে। সেখানে তিনি জানান, সকালে শিশুটিকে তিনি নিজের ঘরে ডেকে নেন এবং ওই সময় তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। পরে তিনি শিশুটির প্রতি কু-দৃষ্টি পড়ে বলে দাবি করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেন, তবে ওই সময় শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে স্বীকার করেন। পরে লাশ ঘরের একটি জায়গায় লুকিয়ে রাখেন এবং কয়েকদিন পর দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে রাতের আঁধারে লাশটি স্থানীয় একটি ডোবায় ফেলে দেন বলেও তার স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। শিশু হত্যার এই নৃশংস ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, এমন ঘটনা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো ঘটনায় শুধু আইনি ব্যবস্থা নয়, সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন। ফাহিমার মৃত্যু এখন শুধুই একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং সমাজে শিশু নিরাপত্তার দুর্বল বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: দৈনিক কালবেলা