‘আমরাও প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ দিতে পারি’-ঐতিহাসিক জয়ের পর শান্ত
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্ত। তাঁর মতে, এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়, বরং ভবিষ্যতে বড় দলগুলোর বিপক্ষেও লড়াই করার সাহস জোগাবে বাংলাদেশকে।
মঙ্গলবার মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এ পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে টাইগাররা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে শান্ত বলেন, “সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমরাও এখন প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি।”
টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক রান করার পাশাপাশি নেতৃত্বেও দেখাচ্ছেন পরিপক্বতা। তাঁর অধিনায়কত্বে এখন পর্যন্ত ১৭ টেস্টে সাতটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই জয়কে তিনি দলীয় আত্মবিশ্বাসের বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। ম্যাচে বাংলাদেশের বোলারদের প্রশংসায় ভাসান শান্ত। বিশেষ করে তাসকিন আহম্মেদ ও নাহিদ রানা-র বোলিং স্পেলকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
শান্ত বলেন, চা বিরতির পর তাসকিন যেভাবে আক্রমণ শুরু করেন, সেটিই পুরো বোলিং ইউনিটকে ছন্দ এনে দেয়। এরপর নাহিদ রানা নিজের গতি ও দক্ষতায় পাকিস্তানি ব্যাটারদের চাপে ফেলে দেন। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের অস্বস্তি প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিল বলেও মন্তব্য করেন টাইগার অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তোলে ৪১৩ রান। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৪০ রান করে ইনিংস ঘোষণা দেয় স্বাগতিকরা। পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় বাংলাদেশ। পরে সমন্বিত বোলিংয়ে সফরকারীদের ১৬৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।
ম্যাচের পরিস্থিতি নিয়ে শান্ত বলেন, শুরু থেকেই দলের লক্ষ্য ছিল জয়। ড্র নয়, বরং প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে ম্যাচ জেতার মানসিকতা নিয়েই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। এমনকি এক মুহূর্তের জন্যও হার বা ড্র নিয়ে ভাবেনি দল। ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্তকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক। তাঁর মতে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন সিদ্ধান্ত আগে খুব একটা দেখা যায়নি। তবে এই ধরনের মানসিকতা ভবিষ্যতে আরও আত্মবিশ্বাস এনে দেবে।
ব্যাট হাতেও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেন শান্ত। তিনি জানান, দ্বিতীয় ইনিংসে পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাটিং করতে পেরেছেন। তবে প্রথম ইনিংসে আরও বড় রান করার সুযোগ ছিল বলেও মনে করেন তিনি।