কোরবানির হাটে ভালো ও সুস্থ গরু চিনবেন যেভাবে
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের পশুর হাটগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরবানির পশু কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এই মৌসুমে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ক্ষতিকর ইনজেকশন, স্টেরয়েড ও রাসায়নিক ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজা করে বাজারে তুলছেন বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের রাসায়নিকযুক্ত গরুর মাংস মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই কোরবানির পশু কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্টেরয়েড দেওয়া গরু বাইরে থেকে হৃষ্টপুষ্ট মনে হলেও ভেতরে ভেতরে অসুস্থ থাকে। সুস্থ গরু চেনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় নিচে তুলে ধরা হলো-
শরীরের গঠন ও ফোলা ভাব
রাসায়নিক ব্যবহার করা গরুর শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে। শরীরে পানি জমে যাওয়ার কারণে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে সেখানে গর্ত তৈরি হয় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগে। অন্যদিকে সুস্থ গরুর শরীর থাকে টানটান ও স্বাভাবিক।
আচরণ ও চলাফেরা
সুস্থ গরু সব সময় চটপটে ও সতর্ক থাকে। খাবার দেখলে খেতে চায় এবং স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করে। কিন্তু কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু সাধারণত ঝিমায়, ক্লান্ত দেখায় এবং ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারে না।
শ্বাস-প্রশ্বাস ও লালা ঝরা
অসুস্থ বা স্টেরয়েড দেওয়া গরু দ্রুত হাঁপায় এবং অনেক সময় মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা ঝরতে থাকে। সুস্থ গরুর ক্ষেত্রে এমন লক্ষণ সাধারণত দেখা যায় না।
নাকের অবস্থা
সুস্থ গরুর নাক ভেজা বা ঘামযুক্ত থাকে। তবে অসুস্থ গরুর নাক অনেক সময় শুকনো দেখা যায়।
মাংস ও চামড়ার ধরন
প্রাকৃতিকভাবে বড় হওয়া গরুর গায়ের রং উজ্জ্বল হয়, কুঁজ শক্ত ও টানটান থাকে। রানের মাংসও শক্ত অনুভূত হয়। অন্যদিকে কৃত্রিমভাবে মোটা করা গরুর পা ও শরীর থলথলে হতে পারে।
শরীরের তাপমাত্রা
অসুস্থ গরুর শরীরের তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়। তাই গরুর শরীর স্পর্শ করেও কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
পাঁজরের হাড় দেখা যায় কি না
সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা গরুর পাঁজরের অন্তত কিছু অংশ বোঝা যায়। কিন্তু অতিরিক্ত মোটাতাজা করা গরুর শরীরে সেই স্বাভাবিক গঠন নাও থাকতে পারে।
কোরবানির পশু কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজনে দেশি গরু কেনার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পশুটি কোরবানির উপযুক্ত কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
বয়স ঠিক আছে কি না
গরুর বয়স কমপক্ষে দুই বছর হতে হবে। সাধারণত নিচের পাটিতে সামনের দিকে দুটি স্থায়ী দাঁত উঠলে সেটি কোরবানির উপযুক্ত বয়স হয়েছে বলে ধরা হয়।
শারীরিক ত্রুটি আছে কি না
কোরবানির পশুর বড় ধরনের শারীরিক ত্রুটি থাকা যাবে না। শিং ভাঙা, লেজ কাটা বা মুখ, জিহ্বা ও খুরে বড় ক্ষত থাকলে সেই পশু এড়িয়ে চলাই ভালো।
গাভি গর্ভবতী কি না
গাভি কোরবানি দেওয়ার আগে সেটি গর্ভবতী কি না তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। গর্ভবতী গাভি কোরবানি দেওয়া ধর্মীয় ও মানবিক দিক থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে সচেতনভাবে সুস্থ ও নিরাপদ পশু কেনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।