কানাডার সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা বোর্ডে অংশগ্রহণ স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্টের সঙ্গে কানাডার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্পর্কের ইতি টানল যুক্তরাষ্ট। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা পূরণে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী এলব্রিজ কোলবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তার দপ্তর ‘পার্মানেন্ট জয়েন্ট বোর্ড অন ডিফেন্স’-এ অংশগ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ করছে। বোর্ডটির কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠিত এ যৌথ প্রতিরক্ষা বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকার আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছিল। তবে ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এক্সে দেওয়া পোস্টে কোলবি বলেন, “কঠোর সামরিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেয় এমন শক্তিশালী কানাডা সবার জন্যই ইতিবাচক।” তবে তার দাবি, প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কানাডা এখনও বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, “বক্তব্য ও বাস্তবতার মধ্যকার ব্যবধান আর উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। যৌথ নিরাপত্তা কাঠামোয় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতির প্রমাণ দেয়।”
ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও পশ্চিমা মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে সমালোচনা করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, বহু মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
গত বছর দ্য হেগ-এ অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্র জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছিল। কানাডাও সে প্রতিশ্রুতিদাতা দেশগুলোর মধ্যে ছিল। কানাডা সরকার জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা খাতে নির্ধারিত ব্যয়ের মধ্যে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সরাসরি সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার করা হবে। বাকি অর্থ বন্দর উন্নয়ন, জরুরি প্রস্তুতি ও অন্যান্য নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
২০২৫ সালের মার্চে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। চলতি বছরে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এমন একটি বৈশ্বিক কাঠামোর কথা বলেন, যেখানে কানাডার মতো মধ্যম শক্তিধর দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতি থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: Al Jazeera