আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসে জাদুঘরকে অতীত ও বর্তমান জীবনের জীবন্ত দলিল হিসাবে মন্তব্য করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, জাদুঘর কেবল অতীত ঐতিহ্যের সংগ্রহশালা নয়; এটি মানবসভ্যতার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক জীবন্ত দলিল। বিভক্ত বিশ্বে সামাজিক সম্প্রীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ গড়ে তুলতেও জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল “Museums Uniting a Divided World” বা “বিভক্ত বিশ্বের সেতুবন্ধনে জাদুঘর”।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শাহবাগ মোড় ও টিএসসি এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জাদুঘর প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে “সভ্যতায় কৃষি ও প্রকৃতি” শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত এ প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং জাতীয় জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মেরিনা তাবাসসুম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. সাদেকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জনশিক্ষা বিভাগের কীপার আসমা ফেরদৌসি।
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল আর্কাইভ, ভার্চুয়াল প্রদর্শনী এবং ইন্টারঅ্যাক্টিভ কার্যক্রমের মাধ্যমে জাদুঘরকে আরও আধুনিক ও জনসম্পৃক্ত করে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম নিজেদের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক শেকড় সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জাতীয় জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারির প্রশংসা করে বলেন, এগুলো দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্তভাবে উপস্থাপন করছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং জাদুঘরের আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে দেশবরেণ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে জাদুঘর প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।