বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের বাতিঘর হয়ে উঠেছেন মুশফিক
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ার পর বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে ছিল স্বস্তি, আত্মবিশ্বাস আর অর্জনের আনন্দ। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আগে সতীর্থদের নিয়ে ডাগআউটে অপেক্ষায় ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কোচিং স্টাফসহ পুরো দলকে দেখে মনে হচ্ছিল এক সুখী পরিবারের ছবি। বড় অর্জনের পর যে প্রশান্তি চোখেমুখে ফুটে ওঠে, সেটিই যেন স্পষ্ট ছিল সবার মাঝে।
গত কয়েক বছরে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল নিজেদের ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার এই সাফল্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। আর এই ঐতিহাসিক অর্জনের পেছনে ছিল দলগত পারফরম্যান্সের অনন্য সমন্বয়।
দুই ম্যাচের সিরিজে অনেকেই উজ্জ্বল ছিলেন। তবে আলাদাভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। পুরো সিরিজজুড়ে ধারাবাহিক ব্যাটিং করে দলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠেন তিনি। ঢাকা টেস্টে করেন ৭১ ও ২৩ রান, আর সিলেট টেস্টে করেন ২২ ও দুর্দান্ত ১৩৭ রান। দুই টেস্ট মিলিয়ে ২৫৩ রান করে সিরিজসেরা নির্বাচিত হন তিনি।
দীর্ঘ ২১ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার সিরিজসেরার পুরস্কার জেতার অনুভূতি নিয়ে মুশফিক বলেন, দেশের হয়ে খেলতে পারাটাই তার জন্য সবচেয়ে বড় প্রেরণা। তিনি জানান, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলতে হলে কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই এবং তিনি এখনো ক্রিকেট উপভোগ করছেন।
সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের লড়াইয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন লিটন কুমার দাস। প্রথম ইনিংসে চাপে পড়া দলকে অসাধারণ সেঞ্চুরি করে টেনে তোলেন তিনি। মুশফিক মনে করেন, লিটনের সেই ইনিংস পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। সেই অনুপ্রেরণা নিয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে বড় ইনিংস খেলেন তিনি নিজেও।
মুশফিক বলেন, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল এবং তাদের পরিকল্পনা ছিল অন্তত ৪০০ থেকে ৪৫০ রানের সংগ্রহ গড়া। একই সঙ্গে বোলারদের কৃতিত্বও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, বোলাররা নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থেকে দারুণ বোলিং করেছে। অন্যদিকে লিটন কুমার দাসও ছিলেন প্রাণবন্ত। ব্যাট হাতে রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। উইকেটরক্ষক হিসেবে দারুণ দক্ষতা দেখানোর পাশাপাশি মাঠে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
লিটন জানান, আগের ইনিংসগুলোতে রান না পাওয়ায় তিনি চাপে ছিলেন না। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে চেয়েছেন। কয়েকটি বাউন্ডারি মারার পর ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়ার দিকেই মনোযোগ দেন তিনি। টেলএন্ডারদের নিয়ে ব্যাটিং করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লিটন বলেন, শেষ সারির ব্যাটারদের নিয়ে রান করা সহজ নয়। তবে তারা নিরাপদ থাকলে তিনিও স্বস্তিতে ব্যাট করতে পারেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে করা সেঞ্চুরিটিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই সিরিজে বাংলাদেশের বোলিং বিভাগও ছিল দুর্দান্ত। প্রথম টেস্টে মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানার পাঁচ উইকেট দলকে জয়ে বড় ভূমিকা রাখে। আর সিলেট টেস্টে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল। ইনিংসে ৬ এবং ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে তিনি জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক সিরিজ জয় দেশের ক্রিকেটে নতুন আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।