ইসলামী ব্যাংকে সরকারের ‘অযাচিত হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ, নিন্দা জামায়াতের
দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এ সরকারের ‘অযাচিত হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার রোববার এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের ধারাবাহিক ‘হঠকারী সিদ্ধান্তে’ দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও আর্থিক খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং জনগণের আস্থায় আঘাত হানতে চেয়ারম্যানকেও অপসারণ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকটির কোটি কোটি গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি ‘পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দোসর’। তাঁর ভাষায়, “এ ধরনের নিয়োগ খাল কেটে কুমির আনার শামিল।”
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল অর্থ লুটপাটের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের ‘ধরা-ছোঁয়ার বাইরে’ রাখা হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এক ডেপুটি গভর্নরকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরকে অপসারণ, লুণ্ঠিত অর্থ ফেরত আনা এবং যোগ্য, সৎ ও ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই বহন করতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তবে এ বিষয়ে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।